মানিক চৌধুরীর মরণোত্তর সন্মাননা গ্রহণ করছেন দীপংকর চৌধুরী কাজল ২৭ ২ ২০১১ইং

রবিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১১

অপারেশন মার্চ লাইটের অন্যতম টার্গেট ছিলেন নৌবাহিনীর লে. কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন


Written by Administrator   
Monday, 31 May 2010 13:32
২৫ শে মার্চ '৭১ ভয়াল সেই কালোরাতে পাক হানাদারদের অপারেশন মার্চ লাইটের অন্যতম টার্গেট ছিলেন নৌবাহিনীর লে. কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন । ২৬ মার্চ ভোরের নির্মম আলোতে স্ত্রী-সন্তানদের সামনে পরপর পাচটি গুলি করে হত্যা করা হয় তার শরীরে । হত্যা করেও ক্ষ্যান্ত হয়নি তারা । তার লাশ পাকিস্তানী ঘাতকবাহিনীর গাড়িতে বেধে টেনে হিচড়ে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরিয়ে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যায় । কোথায় লাশটি নিয়ে যাওয়া হয়েছে তার খোজ মেলেনি আজও ।

কিন্তু কেন তিনি টার্গেট ছিলেন ? তত্কালীন নৌবাহিনীর লে কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেনই সশত্র উপায়ে বাংলাদেশকে স্বাধীন করার প্রথম উদ্যোক্তা ছিলেন এবং আমৃত্যু মুক্তিযুদ্ধের জন্য কাজ করেছেন । বেঙ্গল রেজিমেন্ট, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর কতিপয় দুঃসাহসী তরুন সদস্য এবং কয়েকজন প্রভাবশালী বাঙ্গালী আমলার সহায়তায় তিনি পূর্ব পাকিস্তান কে বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা করেন। সামরিক ও প্রশাসন ক্ষেত্রে বাঙ্গালীদের প্রতি পাকিস্তানী /পাঞ্জাবীদের বিজাতীয় শাসন-শোষন অবহেলা প্রত্যক্ষ ভুক্তভুগি ছিলেন তারা।

দুর্ভাগ্য হল, তাদের এই পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যায়।১৯৬৮ সালের ৬ ই জানুয়ারী ২ জন বাঙ্গালী সি এস পি অফিসারসহ ১৮ জন সামরিক/বেসামরিক বাঙ্গালী আফিসারকে গ্রেফতার করা হয়। সরকারী প্রেসনোটে বলা হয়, "গ্রেফতারকৃতরা ঢাকাস্থ ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে সশস্ত্রপন্থায় পূর্ব পাকিস্তাঙ্কে আলাদা করার চক্রান্ত করছিল।" ১৭ ই জানুয়ারী রাতে হঠাত্ করে কে মুক্তি দেয়া হয় ৮-০৫-৬৬ তারিখ থেকে ৬ দফা আন্দোলনের জন্য কারাবন্দী শেখ মুজিবুর রহমান কে । জেল গেট থেকে বেরিয়ে কয়েক পা এগুতেই সামারিক বাহিনীর সদস্যরা তাকে পুনরায় গ্রেফতার করে কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যায়। ১৮ জানুয়ারী সরকারী প্রেসনোটে বলা হয়, "শেখ মুজিব একটি ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান আসামী ।" এই মামলাটিই আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা বলে খ্যাত। আসামী ৩৫ জন। রাজসাক্ষী ১১ জন। ২১ শে এপ্রিল প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান এক অর্ডিনেন্স জারির মাধ্যমে পাকিস্তান পেনাল কোডের ১২১ক এবং ১৩১ ধারায় অপরাধীদের বিচার করার জন্য এক বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেন। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ছিলেন প্রধান বিচারপতি এম এ রহমান এবং সদস্য ছিলেন বিচারপতি মুজিবুর রহমান, বিচারপতি মোকসুমুল হাকিম। কুর্মিটোলা সেনানিবাসের সিগন্যাল মেস প্রাঙ্গনে ট্রাইব্যুনাল বিচার শুরু হয় ১৯ জুন। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে , এই মামলায় মোট ৩৫ জনকে আসামী করা হয় । শেখ মুজিবুর রহমান, লে কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন, ষ্টুয়ার্ড মুজিব, এল এস সুলতানুদ্দিন আহমদ, এল এস সিডি আই নুর মোহম্মদ , আহমদ ফজলুর রহমান সি এস পি, ফ্লা সার্জেন্ট মফিজুল্লাহ, কর্পৌারাল আবুল বাশার, মোহাম্মদ আবদুস সামাদ, হাবিলদার দলিল উদ্দিন, ফ্লা সার্জেন্ট মোহাম্মদ ফজলুল হক, খন্দকার রুহুল কুদ্দুস সি এস পি, ভুপতি ভুষন চৌধুরী ওরফে মানিক চৌধুরী, বিধান কৃষ- সেন, সুবেদার আবদুর রাজ্জাক, হাবিলদার ক্লার্ক মুজিবুর রহমান, ফ্লা সার্জেন্ট মুহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক, সার্জেন্ট জহুরুল হক, এটি মোহাম্মদ খুরশীদ, খান শামসুর রহমান সি এস পি, হাবিলদার এ কে এম শামসুল হক, হাবিলদার আজিজুল হক, এস এ সি মাহফুজুল বারী , সার্জেন্ট শামসুল হক, মেজর আবদুল মোতালেব , ক্যাপ্টেন এম শওকত আলী, ক্যাপ্টেন খন্দকার নাজমুল হুদা ( ৭ই নভেম্বর ৭৫ তারিখে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা ) , ক্যাপ্টেন এ এন এম নুরুজ্জামান ( ৭১ এ ৩ নং সেক্টর কমান্ডার , মুজিব আমলে প্যারা মিলিশিয়া রক্ষিবাহিনী প্রধান ) ,সার্জেন্ট আবদুল জলিল , মোহাম্মদ মাহববু উদ্দিন চৌধুরী, ফার্ষ্ট লে এম এম এম রহমান, সুবেদার এ কে এম তাজুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী রেজা, ক্যাপ্টেন খুরশীদ উদ্দিন আহমদ এবং ফার্ষ্ট লে আবদুর রউফ । মামলার ভিত্তি ছিল দুটো দলিল -১)লে কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন ডায়েরী ২) শামসুর রহমান সাহেবের ফরিদপুরের ডি সি কে লেখা চিঠি।কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন ডায়েরী কেমন করে সেনা গোয়েন্দা বিভাগের হাতে গেল এবং স্টুয়ার্ড মুজিব কেন শামসুর রহমান সাহেবের ফরিদপুরের ডি সি কে লেখা চিঠির ফটোকপি রেখে ছিল এবং সেটাও কিভাবে সনা গোয়েন্দা বিভাগের হাতে গেল সেটা জানা যায় নি ।

'৬৯ এর গণঅভ্যথানের ফলশ্রুতিতে আইয়ুব খান আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করেন । এক সংক্ষিপ্ত ঘোষনায় বলা হয়

“Where as the emergency have been lifted and fundamental rights revived to avoid any conflict, the Government has considered it expedient to repeal the Criminal Law Amendment (Special Tribunal) Ordinance VI of 1968.”

এই অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী শেখ মুজিব ও অন্যান্যদের বিচার চলছিল । ২২ ফেব্রুয়ারী '৬৯ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান , লেঃ কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেনসহ সব আসামী নিঃশর্ত মুক্তি পান । জয় হয় জনতার ।


সূত্রঃ 

কোন মন্তব্য নেই: