মাহ্ফুজুল বারী
বিগত এক বছর ধরে আমার সতীর্থ বিপ্লবী প্রয়াত মানিক চৌধুরীর বড় ছেলে দীপঙ্কর চৌধুরী (কাজল)-এর বন্ধু বর্তমানে কানাডার অধিবাসী রূপন কান্তি দাসগুপ্তের বারংবার অনুরোধে তার সম্বন্ধে স্মৃতিচারন মূলক লেখায় হাত দিতে তাগিদ অনুভব করি।
আমি ১৯৫৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে যোগদান করি। প্রাথমিক ট্রেনিংয়ের পর করাচীতে প্রতিষ্ঠিত স্কুল অব এরোনটিকস ((Auronautics) থেকে বিমানের Instrument Engineering বিভাগে তিন বছর শিক্ষা গ্রহন করি। ১৯৬২ সালে আমিই প্রথম বাঙালী যে বিমান বাহিনীর সদস্য হিসাবে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের ভাইস কাউন্ট ডিভিশনে যোগ দেই যার অবস্থান ছিল করাচির ড্রিগরোডে। ১৯৬২ সালের শেষদিকে প্রথমবারের মত আমি চট্টগ্রামে দুই মাসের জন্য ছুটিতে যাই। ডিসেম্বর মাসের শেষদিকে (সঠিক তারিখ মনে নেই) তখনকার ‘বঙ্গশার্দুল’ শেখ মুজিব চট্টগ্রাম আওয়ামীলীগ কর্তৃক আয়োজিত জনসেবায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন। তিনি পাকিস্তানের দুই অংশের পর্বতপ্রমান অর্থনৈতিক বৈষম্যের যে চিত্র লাখো জনতার সামনে উপস্থিত করেন তাতে যেন আমার অন্তরের কথাই প্রতিধ্বনিত হয়। কেননা করাচী যাওয়ার পর পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের অস্তিত্বের উপর আমার স্বপ্ন ভাঙতে শুরু করে। ঐদিনের বক্তৃতার পর থেকে তার নেতৃত্ব এবং ব্যক্তিত্বের প্রতি প্রবল ভাবে আকৃষ্ট হয়ে যাই।
এভাবে দেখতে দেখতে ৬৩-৬৪ সাল পার হয়ে গেল। দিনের পর দিন সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত বাঙালী চাকুরিজীবিদের উপর পাকিস্তানীদের দুর্ব্যবহার ও লাঞ্ছনা বেড়েই চলল। সামান্য অজুহাতে চাকুরীচ্যুতি ও পদন্নোতির ব্যাপারে নগ্ন বৈষম্য হয়ে উঠল নিত্যকার ব্যাপার। প্রতিবছর পাকিস্তান সরকারের কেন্দ্রীয় বাজেটের ৭৫% ব্যয় হতো পশ্চিম পাকিস্তানে, আর প্রতিরক্ষা বাজেটের ক্ষেত্রে তার পরিমান ছিল ৯০%। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের সচিব পর্যায়ে একজন বাঙ্গালীও ছিলনা। যদিও আমরা বাঙ্গালীরা ছিলাম মোট জনসংখ্যার ৫৬%। তৎকালীন পাকিস্তানের সরকারে ১২৬টি দেশে দুতাবাস ছিল যেখানে মাত্র ১জন বাঙ্গালী রাষ্ট্রদুত হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। শিক্ষাক্ষেত্রে কমনওয়েলথ সহ অন্যান্য দেশ কর্তৃক যত বৃত্তি দেয়া হতো তার ৯০ ভাগ বরাদ্দ হত করাচী এবং ইসলামাবাদের জন্য। আইয়ুব খান ক্ষমতা দখলের পর করাচী থেকে ইসলামাবাদে নতুন রাজধানী স্থাপন করেন। কৃষিকাজে জলসেচের জন্য তারবেলা এবং মঙ্গলা বাঁধ নির্মানে খরচ করেন বর্তমান বাজার মূল্যে দুই লাখ হাজার কোটি টাকা। বাৎসরিক উন্নয়নের ৮০ ভাগই বরাদ্দ হতো পশ্চিম পাকিস্তানে। প্রদত্ত বৈদেশিক সাহায্য প্রাপ্তি ক্ষেত্রেও একই বৈষম্যমূলক নীতি চালু ছিল। এই হলো সার সংক্ষেপে বৈষম্যের চিত্র।
এভাবে দেখতে দেখতে ৬৩-৬৪ সাল পার হয়ে গেল। দিনের পর দিন সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত বাঙালী চাকুরিজীবিদের উপর পাকিস্তানীদের দুর্ব্যবহার ও লাঞ্ছনা বেড়েই চলল। সামান্য অজুহাতে চাকুরীচ্যুতি ও পদন্নোতির ব্যাপারে নগ্ন বৈষম্য হয়ে উঠল নিত্যকার ব্যাপার। প্রতিবছর পাকিস্তান সরকারের কেন্দ্রীয় বাজেটের ৭৫% ব্যয় হতো পশ্চিম পাকিস্তানে, আর প্রতিরক্ষা বাজেটের ক্ষেত্রে তার পরিমান ছিল ৯০%। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের সচিব পর্যায়ে একজন বাঙ্গালীও ছিলনা। যদিও আমরা বাঙ্গালীরা ছিলাম মোট জনসংখ্যার ৫৬%। তৎকালীন পাকিস্তানের সরকারে ১২৬টি দেশে দুতাবাস ছিল যেখানে মাত্র ১জন বাঙ্গালী রাষ্ট্রদুত হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। শিক্ষাক্ষেত্রে কমনওয়েলথ সহ অন্যান্য দেশ কর্তৃক যত বৃত্তি দেয়া হতো তার ৯০ ভাগ বরাদ্দ হত করাচী এবং ইসলামাবাদের জন্য। আইয়ুব খান ক্ষমতা দখলের পর করাচী থেকে ইসলামাবাদে নতুন রাজধানী স্থাপন করেন। কৃষিকাজে জলসেচের জন্য তারবেলা এবং মঙ্গলা বাঁধ নির্মানে খরচ করেন বর্তমান বাজার মূল্যে দুই লাখ হাজার কোটি টাকা। বাৎসরিক উন্নয়নের ৮০ ভাগই বরাদ্দ হতো পশ্চিম পাকিস্তানে। প্রদত্ত বৈদেশিক সাহায্য প্রাপ্তি ক্ষেত্রেও একই বৈষম্যমূলক নীতি চালু ছিল। এই হলো সার সংক্ষেপে বৈষম্যের চিত্র।
পাকিস্তান আমলের বাজেটের বাৎসরিক বাজেটের বরাদ্দের বিস্তারিত তথ্য দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনৈতিক বিভাগে আজো পাওয়া যাবে। প্রতিনিয়ত বন্ধু- বান্ধব এবং সহকর্মীদের ভেতর এইসব নিয়ে আলোচনা হতো। আলোচনা হতো কিভাবে এ অত্যাচার থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
‘মৌলিক গনতন্ত্র’ নামে এক অদ্ভুত গনতন্ত্র প্রবর্তনের মাধ্যমে আইয়ুব খান ১৯৬৪ সালে এক প্রহসনমূলক নির্বাচনে ফাতেমা জিন্নাহকে পরাজিত করে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৬৫ সনের ৪ঠা জানুয়ারী তখনকার বঙ্গশার্দুল করাচীতে আগমন করেন। আমি আমার অন্য দুই বন্ধু বিমান বাহিনীর সদস্য হাবিবুর রহমান এবং বেলায়েত হোসেন সংগোপনে বঙ্গশার্দুল শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে করাচী বিমান বন্দরে সাক্ষাত করি। একান্তভাবে আলাপ করার জন্য পরবর্তী সাক্ষাতের স্থান হিসাবে হোসেন শহীদ সোহরাওর্দীর জৈষ্ঠ্যকন্যা আক্তার সোলায়মানের বাড়ী লাকাম হাউস এ মিলিত হবার সিদ্ধান্ত নিই। দুঃখের কথা এই যে, আমার সেই দুই বন্ধু আজ লোকান্তরিত।
বঙ্গবন্ধুর সাথে আলাপে আমরা একটা কথাই বললাম যে, পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ধর্মকে শোষন এবং শাসনের হাতিয়ার হিসাবে ব্যাবহার করছে। এদের মুখে শেখ ফরিদ বোগলে ইট। শেখ মুজিব আমাদেরকে বললেন, দেশের যারা প্রতিনিধি হয়ে আসে তারা ব্যাক্তি স্বার্থে পাকিস্তানি শিল্পপতিদের কাছে বিক্রি হয়ে যায়। অর্থাৎ তারা টাকার কাছে আতœসমর্পন করে। তিনি জোর দিয়ে বললেন ‘বেড়ায় ক্ষেত খায় আমি কি করব? অত্যাচার এবং বৈষম্যের অবসান করতে হলে সন্মিলিত প্রয়াসের প্রয়োজন।’
শেখ মুজিবুরের মত এমন একজন নিখাদ দেশপ্রেমিকের সাথে পরিচয়ের প্রভাব পরবর্তীতে আমাকে ঘটনাবহুল কর্মকান্ড ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে যুক্ত হতে সাহস ও অনুপ্রেরনা যোগায়। এটা আমার জন্য এক আকাশ ছোঁয়া গর্বের ব্যাপার।
শেখ মুজিবুরের মত এমন একজন নিখাদ দেশপ্রেমিকের সাথে পরিচয়ের প্রভাব পরবর্তীতে আমাকে ঘটনাবহুল কর্মকান্ড ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে যুক্ত হতে সাহস ও অনুপ্রেরনা যোগায়। এটা আমার জন্য এক আকাশ ছোঁয়া গর্বের ব্যাপার।
বৈষম্য নিয়ে আলাপ- আলোচনার এক পর্যায়ে আমার সাথে এয়ারফোর্সের কর্পোরাল সিরাজুল ইসলাম এবং সার্জেন্ট আব্দুল জলিলের সাথে পরিচয় ঘটে। পরে ফ্লাইট সার্জেন্ট মফিজউল্লাহ, সাজেন্ট জহুরুল হক, সাজেন্ট শামসুল হক, নৌ বাহিনীর লেঃ মতিয়ুর রহমান, কমান্ডার (অব) আব্দুর রউফ এবং টেক্সটাইল কোম্পানীর ম্যানেজার মাহবুব উদ্দিনের সাথে পরিচয় ঘটে। বিভিন্ন সময়ে প্রয়াত লেফটেন্যান্ট মতিয়ুর রহমান এবং সার্জেন্ট আব্দুল জলিলের বাসায় বৈঠক করে আমরা সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে দেশকে স্বাধীন করার সিদ্ধান্তে উপনীত হই এবং বুঝতে পারি যে এজন্য আমাদের প্রয়োজন রাজনৈতিক সমর্থন এবং সহযোগিতা। লেফটেন্যান্ট মতিয়ুর রহমান এবং মফিজউল্লাহ প্রথমে না বললেও এই সশস্ত্র বিপ্লবের নেতৃত্বে কমান্ডার মোয়াজ্জেম আগাগোড়াই ছিলেন, তা পরবতীতে আমাদের কাছে প্রকাশিত হয়।
এক পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে আমরা আমাদের সশস্ত্র বিপ্লবের প্রতি সমর্থন আদায়ের জন্য যোগ্য ও সাহসী বাঙালী রাজনীতিবিদদের সাথে যোগাযোগ করার সিদ্ধান্ত নেই। আমরা কয়েকজন বাঙালী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সুস্পষ্ট আশ্বাস পেতে ব্যর্থ হই। সেই সময়ে যারা সমর্থন দেন নাই তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন - মাওলানা ভাসানী, মশিউর রহমান, ফজলুল কাদের চৌধূরী, সবুর খান, ফরিদ আহম্মদ এবং ইউসুফ আলী প্রমুখ। এক পর্যায়ে শেখ মুজিবের কাছ থেকে আমরা আশ্বাস এবং দিকনির্দেশনা পাই এবং এই নিয়ে তার সদিচ্ছার ব্যাপারে নিশ্চিত হই। এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে তিনি হবেন আমাদের তথা সারা দেশের প্রতিবাদী জনগনের নেতৃত্ব দানকারী সংগ্রামী নেতা।
বৈঠকে সমস্ত বিষয়ে সর্বোচ্চ গোপনীয়তা রক্ষার সিদ্ধান্ত হয়। নৌ, বিমান এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা বিশ্বস্ত লোকজন নিয়ে ধীরে ধীরে পৃথক পৃথক গ্রুপ সৃষ্টির মাধ্যমে সংগঠিত হওয়ার অঙ্গীকার করে।
বন্দী হওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা সরকারী কাজের ফাঁকে ফাঁকে সশস্ত্র প্রস্তুতির জন্য প্রতি নিয়তই গোপন বৈঠক করে সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির কাজে নিয়োজিত থাকি। আমি ব্যক্তিগতভাবে আমাদের সংগঠনের একজন সদস্যের মাধ্যমে তখনকার মৌরিপুর করাচী এয়ারফোর্সের রেকর্ড অফিস থেকে ব্যাক্তিগত ফাইল সরিয়ে ফেলি, যাতে অন্যত্র বদলি হতে না হয় এবং করাচীতে বসেই সশস্ত্র প্রস্তুতির কাজে আত্মনিয়োগ করতে পারি। ফলে বন্দী হওয়া অবধি আমি একই কর্মস্থলে থেকে যাই।
অংশগ্রহনকারীরা সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের এর বাস্তব রূপায়নের প্রকৃত কৌশল সম্পর্কে সবাই পুরোপুরি অবগত ছিলেন না। আমাদের মধ্যে এটা জানা ছিল যে সশস্ত্র প্রস্ততির শেষে একদিন পূর্বপাকিস্তানের সব ক্যান্টনমেন্টের অস্ত্রাগার দখল করে পশ্চিমা পাকিস্তানী সৈন্যদের বন্দী করে দেশকে স্বাধীন করা হবে এবং ‘বঙ্গশার্দুল’ ই হবেন দেশের প্রেসিডেন্ট।
বন্দী হওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা সরকারী কাজের ফাঁকে ফাঁকে সশস্ত্র প্রস্তুতির জন্য প্রতি নিয়তই গোপন বৈঠক করে সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির কাজে নিয়োজিত থাকি। আমি ব্যক্তিগতভাবে আমাদের সংগঠনের একজন সদস্যের মাধ্যমে তখনকার মৌরিপুর করাচী এয়ারফোর্সের রেকর্ড অফিস থেকে ব্যাক্তিগত ফাইল সরিয়ে ফেলি, যাতে অন্যত্র বদলি হতে না হয় এবং করাচীতে বসেই সশস্ত্র প্রস্তুতির কাজে আত্মনিয়োগ করতে পারি। ফলে বন্দী হওয়া অবধি আমি একই কর্মস্থলে থেকে যাই।
অংশগ্রহনকারীরা সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের এর বাস্তব রূপায়নের প্রকৃত কৌশল সম্পর্কে সবাই পুরোপুরি অবগত ছিলেন না। আমাদের মধ্যে এটা জানা ছিল যে সশস্ত্র প্রস্ততির শেষে একদিন পূর্বপাকিস্তানের সব ক্যান্টনমেন্টের অস্ত্রাগার দখল করে পশ্চিমা পাকিস্তানী সৈন্যদের বন্দী করে দেশকে স্বাধীন করা হবে এবং ‘বঙ্গশার্দুল’ ই হবেন দেশের প্রেসিডেন্ট।
সংগঠনের প্রস্ততির কাজ চলে সমান্তরাল ভাবে বিভিন্ন গ্র“পে; করাচী, ঢাকা, চট্ট্রগ্রামে অতি গোপনীয়ভাবে। এক পর্যায়ে আমরা জানতে পারি শেখ মুজিবুর রহমান কোন এক সময়ে শসস্ত্র বিদ্রোহের মাধ্যমে স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারত সরকারের সমর্থন আদায়ের জন্য গোপনে ত্রিপুরা প্রদেশের রাজধানী আগরতলায় গিয়েছিলেন। তারই ফলোআপ হিসেবে দুটি বিষয়ে তৎকালীন দিল্লি সরকারের সমর্থন ও সহযোগিতা আদায় করা আমাদের জন্য ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। পূর্বপাকিস্তানের সকল কেন্টনমেন্টের অস্ত্রাগার দখলে নেয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য আমাদের প্রয়োজন ছিল পর্যাপ্ত অস্ত্রের সরবরাহ আর কেন্টনমেন্ট দখল করে স্বাধীনতা ঘোষনার পর পরই দিল্লি সরকারের রাজনৈতিক স্বীকৃতি। এ দুটি বিষয়ে ইতিবাচক সমর্থন লাভের উদ্দেশ্যে লাহোরে অবস্থিত সিভিল সার্ভিস একাডেমীর প্রফেসর প্রয়াত এম এ রেজা ও বিপ্লবী মানিক চৌধুরী ঢাকাস্থ ভারতীয় দুতাবাসের প্রথম রাজনৈতিক সচিব পি এন ওজার মাধ্যমে ত্রিপুরা রাজ্যের গোপনের জায়গায় ভারতীয় উর্দ্ধতন নেতৃত্বের সাথে বৈঠক করেন। ১৯৬৭ সালের অক্টোবর/ নভেম্বরের দিকে কর্পোরাল আমীর হোসেন নামক বিমান বাহিনীর একজন বাঙালী কর্মকর্তা বিশ্বাস ঘাতকতা করায় সশস্ত্র প্রস্তুতির মূল পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যায়। তৎকালীন আইয়ুব সরকার ১৯৬৮ সালের ৬ই জানুয়ারী এক প্রেস বিজ্ঞপ্তীর মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং বিদ্রোহ সংগঠনের কথা ঘোষনা করে। ২ সপ্তাহ পর ১৮ ই জানুয়ারী ১৯৬৮ সালে আরেকটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাঙালীর অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গশার্দুল শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রদ্রোহী ষড়যন্ত্রের আসামী ঘোষনা করা হয়।
দেশের বিরুদ্ধে রাষ্টদ্রোহিতার অভিযোগে দুইজন আওয়ামীলীগ নেতা, তিনজন সিভিল (সি এস পি) কর্মকর্তাসহ নৌ, বিমান এবং সেনাবাহিনী থেকে প্রতক্ষ্যভাবে জড়িতদের চিহ্নিত করে মোট ৩৫ জনকে চার্জশীট ভুক্ত আসামী করে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা ঋজু করা হয়। ১৯৬৮ সনের ১৯ই জুন এই মামলায় রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিব ও অন্যান্য শিরোনামে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ১১ জনকে রাজসাক্ষী এবং ২ শতাধিক সামরিক এবং বেসামরিক লোককে সাক্ষী করা হয়। সহস্রাধিক সন্দেহভাজন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য বেসামরিক কর্মকর্তা- কর্মচারী এবং রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ঐ সময় আমাকেও এই মামলার আসামী হিসাবে অন্যান্যদের সাথে গ্রেপ্তার করা হয়। সরকার কর্তৃক গঠিত ঢাকা সেনানিবাসে স্পেশাল ট্রাইবুনালে মামলাটিকে রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিব এবং অন্যান্য শিরোনামে ঋজু করা হলেও এটাকে দূরভিসন্ধি মূলকভাবে ভারতের ষড়যন্ত্র হিসাবে প্রচার করা হয় যাতে করে স্বাধীনতাকামী সৈনিক জনতার বিরুদ্ধে সাধারন মানুষকে ক্ষেপিয়ে তোলা যায় ও শেখ মুজিবসহ বিপ্লবী সংগঠকদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে স্বাধীনতা আন্দোলনকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়া যায়। এ প্রচারে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এটর্নি পাঞ্জাবী মেজর নাসেরের ভূমিকাই ছিল মূখ্য। অন্যান্য অভিযুক্ত বন্দিদের সঙ্গে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আমাকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে স্থানান্তর করা হয়। ১৯৬৮ সনের জুনের ১৯ তারিখ পর্যন্ত নির্জন কক্ষে বন্দি ছিলাম। দেশের মানুষ এবং বহির্বিশ্ব তো দূরের কথা, আতœীয়- স্বজনও জানতনা যে আমরা জীবিত না মৃত। সে সময় প্রায় প্রতিদিন একমাত্র বঙ্গবন্ধু ছাড়া আমাদের সকলকে সেনাবাহিনীর টর্চার সেলে নিয়ে গিয়ে সীমাহীন শারিরীক এবং মানসিক নির্যাতন করা হতো। এর মধ্যে পা বেঁধে উপুুর করে ঝুলিয়ে রেখে ব্যাটন দিয়ে নির্মমভাবে পেটানো হতো পায়ের তালুতে, গুহ্যদ্বারে বরফ ঢোকানো হতো এবং মানসিকভাবে নির্যাতনের জন্য রাতে আমরা যাতে ঘুমাতে না পারি এজন্য পাশের কক্ষে মাইক বাজানো হতো ও রুমে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বৈদ্যুতিক বাতি জালিয়ে রাখা হতো। মামলা শুরু হবার পর অভিযুক্ত আমরা পরস্পরের সংগে পরিচিত হবার কিঞ্চিত সুযোগ পাই।
১৯ জুন মামলা আরম্ভ হবার পরে আমার সংগে পরিচয় ঘটে অভিযুক্ত চট্টগ্রামের সিটি আওয়ামীলীগের নেতা বিভূতি ভূষন চৌধুরী ওরফে মানিক চৌধুরী এবং বিধান কৃষ্ণ সেনের সংগে। বিচার চলাকালীন অবস্থার সকল অভিযুক্তদের সংগে আমার সখ্যতা হলেও মানিক চৌধুরীর কথাবার্তায় আমি তার প্রতি বিশেষভাবে আকৃষ্ট হই। মানিক চৌধুরী ও বিধান কৃষ্ণ সেনের সাথে আমার দেখা হতো প্রতিদিন বিকালে কারাগারের খোলা চত্বরে অথবা খাবার ঘরে। তখন দেখতাম মানিক চৌধুরীর উপর পাকিস্তানিদের পাশবিক নির্যাতনের চিহ্ন। নির্যাতনে তার কান ও একটা চোখ অকেজো হয়ে যায়। আমাদের উপর নির্যাতন হলেও লেঃ কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন, বিধানকৃষ্ণ সেন, মানিক চৌধুরী এবং ষ্টুয়ার্ড মুজিবের উপর নির্যাতনের মাত্রা ছিল সীমাহীন। নির্যাতনে লেঃ কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেনের ২টি দাঁত ভেঙ্গে যায়। দেখতাম মানিকদা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছেন, তবুও তিনি নিম্নস্বরে হাসিমুখে আমাদের সাথে কথা বলতেন। গৌরবর্ন ও মাঝারি গড়নের শান্ত সৌম্য মানিক চৌধুরীর অগাধ দেশপ্রেম, দেশকে নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার সাথে পরিচিত হয়ে আমি মুগ্ধ হয়ে যাই। অনেক কথাই হয়েছে তাঁর সাথে। মতান্তরও ছিল কিছু কিছু বিষয়ে, কিন্তু মনান্তর হয়নি এক মূহুর্তের জন্য। দেশের মানুষদের মধ্যে অশিক্ষা, কুশিক্ষা ও কুসংস্কারের প্রভাব দেখে ব্যথিত হতেন এবং এর থেকে মুক্তির জন্য গনশিক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা বলতেন। সংস্কারমুক্ত বৈজ্ঞানিক সমাজের প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি আন্দোলনের রূপরেখা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করতেন। নারীমুক্তির জন্য নারীদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রশ্নে জোরালো অভিমত ব্যক্ত করতেন। পাকিস্তান নামক রাষ্ট্র মানবকল্যান ও সুস্থ বিকাশের পথে অন্তরায় এবং ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক ভেদবুদ্ধির দ্বারা আচ্ছন্ন তা তিনি বিভিন্ন সময়ে প্রাঞ্জলভাবে আলোচনা করে বুঝিয়ে দিতেন। উপযুক্ত শিক্ষার অভাবে প্রজন্ম পরষ্পরায় পাওয়া সাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ যে মানবিক চেতনা ও সুকুমার বৃত্তিকে বিকশিত হতে দেয় না এবং চিন্তার ক্ষেত্রকে সংকুচিত করে দেয়, এটাই ছিল তার কেন্দ্রীয় উপলব্ধি।
মানিকদার সাহচর্য আমাকে স্বাদেশিকতা ও জাতীয়তবোধের গভীরে প্রবেশ করতে সাহায্য করে। আজ অনেক বছর পর যখন সুদূর কানাডায় বসে দেখি পাকিস্তানের সাম্প্রাদায়িক ও ধর্মীয় রাজনীতির যাতাকলে পড়ে শিয়া সুন্নিতে হানাহানি, মসজিদে মসজিদে বোমাবাজি, সংঘাত, সন্ত্রাস ও রক্তপাত চলছে আর ইসলামী জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটছে; তখন সেনা নিবাসের বন্দী দিনগুলোতে মানিকদার কথোপথন আমাকে স্মরন করিয়ে দেয় অসাম্প্রায়িক ও গনতান্ত্রিক রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা। মামলা চলাকালীন অবস্থায় বঙ্গবন্ধু তাঁর জামাতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী প্রয়াত ওয়াজেদ মিয়ার মাধ্যমে তখনকার ডাকসুর ছাত্র নেতা জনাব তোফায়েল আহম্মদকে আতœীয় পরিচয়ে অতি গোপনীয়তার সাথে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে মুক্তির আন্দোলন এবং পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলাপ করতেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্র জনতা সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে শেখমুজিবসহ আসামীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবীতে ব্যাপক গন আন্দোলনের সূচনা করে। ঢাকা শহর আওয়ামীগের তৎকালীন সভাপতি প্রয়াত গাজী গোলাম মোস্তফার বলিষ্ঠ সাংগঠনিক দক্ষতা ও এ মামলার বিরুদ্ধে জনগনকে সংগঠিত করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
লন্ডন প্রবাসী বাঙালীরা আওয়ামীলীগ সভাপতি প্রয়াত গাউস খানের নেতৃত্বে শেখ মুজিবসহ সকল আসামীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবীতে প্রতিনিয়ত মিছিল সমাবেশ ও অনেক অর্থ খরচ করে আইনি লড়াই পরিচালনার জন্য কুইন্স কাউন্সিলের নামকরা ব্যারিষ্টার থমাস উইলিয়ামকে পূর্ব পাকিস্তানে পাঠিয়েছিলেন। তাঁর জেরার মুখে রাজ সাক্ষীরা দিশাহারা হয়ে দেখতে পায় সরিষার ফুল। ক্যান্টনমেন্টে স্থাপিত ট্রাইবুনাল কক্ষে উপস্থিত সকলের কাছে আজও সে দৃশ্য স্মরণীয় হয়ে আছে। প্রায় ৪০ জন আইনজীবির সমন্বয়ে গঠিত হয় ডিফেন্স টিম। তখন নামকরা যে সকল কৌশলী এই মামলা পরিচালনায় মেধা দিয়ে নিরলস পরিশ্রম করেন তাদের মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য হলেন জনাব সালাম খান, ব্যারিষ্টার জেড এ আলম, জহির উদ্দিন,বদরুল হায়দার চৌধুরী, প্রাক্তন ডি আই জি আবদুল্লা, জুলমত আলী, ডাঃ আঃ রাজী, প্রখ্যাত ব্যারিষ্টার আমিরুল ইসলাম,খান বাহাদুর নাসির উদ্দীন, আমিনুল হক এবং মীর হোসেন প্রমুখ।
সেই সময় আসামী পক্ষের কৌশলী হওয়া সত্ত্বেও সরকারকে মামলা সংক্রান্ত গোপন তথ্য সরবরাহ করার অপরাধে ডিফেন্স টীম থেকে বহিস্কার করা হয় মীর্জা গোলাম হাফিজকে। এই বিশ্বাসঘাতক আইনজীবিকে ৭৫ সনের পট পরিবর্তনের পর দেখা গেল জেনারেল জিয়ার মন্ত্রী পরিষদের সদস্য ও পরবর্তীতে স্পীকারের আসনে।
স্মৃতি বড় মধুর ও বেদনাদায়ক। মুক্তির আন্দোলন যখন চরমে ওঠে তখন ১৫ ফেব্র“য়ারী ১৯৬৯ সালে ঢাকা সেনানিবাসে আটক অবস্থায় টয়লেটে যাওয়ার সময় সার্জেন্ট জহুরুল হক এবং ফ্লাইট সার্জেন্ট ফজলুল হককে এক পাকিস্তানী নিরাপত্তা রক্ষী সামনা সামনি গুলি করে ও মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য জহুরুলের শরীরের বেয়নেট চার্জ করে। পরে তিনি সি, এম, এইচ এ মারা যান। ফ্লাইট সার্জেন্ট ফজলুল হক প্রানে বেঁচে যান। এই হৃদয় বিদারক ঘটনা আমরা জানালা দিয়ে প্রত্যক্ষ করেছি। এ ঘটনার পর আন্দোলন তীব্র হয়ে উঠে ও বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটে। সার্জেন্ট জহিরুল হকের আত্মাহুতির ফলে গন বিস্ফোরন ঊনসত্তরের গন অভ্যুত্থানের রূপ নেয়। সরকার বিনা শর্তে ২২ ফেব্র“য়ারী ১৯৬৯ মামলা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়। মামলা প্রত্যাহারের পর সারা দেশ জুড়ে বাঙালিদের মধ্যে প্রাথমিক বিজয়ের আনন্দ হিল্লোল বয়ে যায়। শেখ মুজিবসহ সকল অভিযুক্তরা মুক্তি লাভ করলে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ২৩ শে ফেব্রুয়ারী ১৯৬৯ সালে শেখ মুজিবকে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় “বঙ্গবন্ধ” উপাধিতে ভূষিত করে। তিনি পরিণত হলেন বাংলার অবিসংবাদিত নেতা কিংবদন্তীর চরিত্রে। এই মামলায় চট্টগ্রাম থেকে আমরা যারা অভিযুক্ত ছিলাম তাদের চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রয়াত মন্ত্রী জহুর আহম্মদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সংবর্ধনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তৎকালীন চট্টগ্রামের ছাত্রলীগ নেতা বর্তমানে চট্টগ্রামের সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী ও এস, এম ইউসুফ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। মানিক চৌধুরী, বিধান কৃষ্ণ সেন এবং আমাকে বিপুল জনতার উপস্থিতিতে বিজয়মালায় অভিষিক্ত করা হয়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা একটি অন্যতম মাইল ফলক। স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে এ মামলার গুরুত্ব অপরিসীম। সেই সময় পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালীদের মনে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা গভীরভাবে রেখাপাত করে যার ফলে তখন থেকে সশস্ত্র আন্দোলন ও স্বাধীন বাংলাদেশের কথা জনগনের মধ্যে প্রকাশ্যেই উঠতে থাকে। স্বাধীন দেশের নাম ও মানচিত্র নিয়ে চিন্তা- ভাবনা চলতে থাকে ব্যাপকভাবে। আগরতলা মামলাকে কেন্দ্র করে যে সব বিরাট বিরাট ঘটনা ঘটে সেগুলো স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি অন্যতম স্রোতধারা।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে মূখ্য ভুমিকা পালনকারী হিসাবে অনেক রাজনৈতিক নেতাদের নাম উচ্চারিত হয়। কিন্তু আমার ভাবতে অবাক লাগে মানিক চৌধুরী ও বিধানকৃষ্ণ সেন সহ মামলার অভিযুক্ত অন্যান্য বিপ্লবীদের আমরা কিভাবে ভুলে গেলাম। ১৯৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধে বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হওয়ার আগেই চট্টগ্রামের মানিক চৌধুরী এবং বরিশালের প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য চিত্তরঞ্জন সুতারকে দায়িত্ব দিয়ে ছিলেন ভারতে অবস্থান নিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রস্তুতিমূলক কাজ করবার। সে সময় দক্ষিন কলকাতার একটি বাড়ীও ভাড়া করা হয়েছিল দাপ্তরিক কাজের জন্য। যুদ্ধের সূচনা লগ্নে জনাব তাজউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ আওয়ামীলেিগর শীর্ষস্থানীয় নেতারা ভারতের কলকাতায় আশ্রয় নিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধের পক্ষে সমন্বয় করেন। প্রথমে সেই বাড়ী থেকেই (ঐতিহাসিক ৭ মার্চ ভাষন দেবার বেশ কিছু আগে) যুদ্ধের বীজ বপনের দায়িত্ব পড়েছিল চিত্তরঞ্জন সুতার ও মানিক চৌধুরীর উপর। বঙ্গবন্ধু মানিক চৌধুরীকে যে কতটা বিশ্বাস করতেন এই ঘটনা তা থেকে প্রতীয়মান হয়।
১৯৭১ সনে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আমি যুদ্ধ সংক্রান্ত গোপন তথ্য আদান প্রদানের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলাম। এই কাজে আমি ত্রিপুরার উদয়পুরে ভারতীয় ব্রিগেডিয়ার সাবেক সিং এর অফিসে গেলে, সেখানে হঠাৎ একদিন মানিক চৌধুরীর সাথে দেখা হয়। আমি তাঁকে উচ্ছ্বাস ভরে ফাইন্যান্স মিনিষ্টিার হিসেবে সম্বোধন করি। কারণ স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র প্রস্তুতির প্রাক্কালে বিপ্লবী সংগঠনের কার্যক্রমের জন্য যে অর্থ তহবিলের প্রয়োজন ছিল, তার অন্যতম উৎস ছিলেন মানিক চৌধুরী। তিনি আমাকে বললেন, “দেশ স্বাধীন হবে, বঙ্গবন্ধু কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন, কিন্তু জাতির শত্র“রা হয়তো তাঁর উপর অচিরেই আঘাত হানবে”। একই কথা বলেছিলেন জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক, চট্টগ্রামের অধিবাসী জনাব নিজামউদ্দীন যিনি এখনও জীবিত আছেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বুঝতে পারি মানিক চৌধুরী কত দূরদৃষ্টিসম্পন্ন মানুষ ছিলেন।
আমরা যারা একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে বাস করছি সে দেশটির বেশ কিছু দেশপ্রেমিক মানুষ নেতা কর্মীদের দীর্ঘদিনের ত্যাগ তিতিক্ষা ও ধারাবাহিক আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ফসল। সেটি হঠাৎ করে সামাজিক এবং রাজনৈতিক পরিচয়হীন কোন মেজর এর রেডিওতে স্বাধীনতা পাঠের প্রক্রিয়ার একদিনে অর্জিত হয়নি। মামলায় অভিযুক্ত ৩৫ জনের ভিতরে মাত্র ১১ জন বর্তমানে জীবিত আছি। মানিকদা ৫০ বছর বয়সে ১৯৮০ সালে আমাদেরকে ছেড়ে চলে গেছেন। তারই বিশেষ বন্ধু বিধান কৃষ্ণসেনও আজ বেঁচে নেই। লোকান্তরিত বিপ্লবীদের জন্য রইল শ্রদ্ধা। আর জীবিতদের জন্য ভালোবাসা ও সংগ্রামী অভিবাদন। প্রয়াত বিপ্লবীদের অনেকের পরিবারের সদস্যরা আজ দুঃস্থভাবে কালাতিপাত করছেন, যার খবর কেউ রাখেনা।
এ মামলার কোনো আসামীর নামে বাংলাদেশে নূন্যতম একটি রাস্তার নাম করণও করা হয়নি। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান মেয়র জনাব মহিউদ্দিন চৌধুরী একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং এই মামলার অনেক কিছুই তিনি জানেন। আমি আশা করি তিনি ক্ষমতায় থাকাকালে চট্টগ্রামের বিপ্লবী নেতা প্রয়াত মানিক চৌধুরী এবং বিধান কৃষ্ণ সেনের নামে রাস্তার নামকরন করে তাঁদের প্রাপ্য মর্যাদার স্বীকৃতি এবং সন্মান দিয়ে কিছুটা হলেও ভারমুক্ত হবেন। চট্টগ্রামের একটি রাস্তার নাম কামাল আতার্তুক সড়ক। ভিনদেশী একজন জাতীয় বীরকে নিয়ে আমরা গর্ব করি ও পুলকিত হই। অথচ আমাদের দেশে অনেক জাতীয় বীর, মুক্তিযোদ্ধা এবং বিপ্লবী নেতা আজও উপেক্ষিত এবং বিস্মৃতির অতলে ডুবে গেছেন। তাঁদের জাতির সামনে উপস্থাপনের দায়িত্ব আমাদের। দুঃখের ব্যপার হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সাফল্যের সাথে আগরতলা মামলার ঘটনাবলী বিশেষ অবদান রেখেছে সেগুলি আজকাল আমাদের মন থেকে যেন উধাও হতে চলেছে। তবে ইতিহাস যেহেতু তাকে ভুলতে দেয়না, অতীতের গুরুত্বপূর্ন ঘটনা এবং কথা কারো কারো মনে দোলা দেয় এবং মনে রাখার দাবী তোলেন এবং ঐতিহাসিক ঘটনাবলী একটু সহজ সরল ভাবে নির্মোহ এবং নির্দলীয়ভাবে যদি কেউ লেখেন যাতে পরে তা স্কুল এবং কলেজে পাঠ্য করার জন্য বিশেষ সংরক্ষনে রূপান্তরিত করা যায় তাহলে জাতি তার কাছে কৃতজ্ঞ থাকবে। তিনি নিশ্চয়ই বীরের সন্মানে সস্মানিত হবেন।
[
প্রসঙ্গক্রমে বলতে হয়, আমরা এমনি অকৃতজ্ঞ যে ১৯৭১ সালে ভারতের জনগন এবং তৎকালীন প্রধান মন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সরকার অকৃপনভাবে মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য করেছিলেন, ১ কোটি লোককে আশ্রয় দিয়েছেন অথচ আমরা প্রতিবছর বিজয় দিবসে ভারতের অবদানকে স্মরন করে কোন লেখা পত্রিকায় দেখিনা। ভারতের হাজার হাজার সৈন্য ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে প্রান বিসর্জন দিয়েছেন অথচ আমরা এতদিনেও ঐ অজানা সৈনিকদের জন্য একটি স্মৃতিসৌধ তৈরী করতে পারিনি। এ দুঃখ ও বেদনা রাখব কোথায়? নিজেদেরকে অপরাধী মনে হয়। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে হিটলারের নাৎসী বাহিনীর বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর হয়ে যারা যুদ্ধ করেছিলেন এবং এখনও জীবিত আছেন; তাদের বীরত্ব ও ত্যাগের কথা স্মরন করে প্রতিবছর আমেরিকা, কানাডা ও ইংল্যান্ড থেকে নরম্যান্ডি, ফ্রান্স ও ইতালীতে নিয়ে এসে সন্মান দেখানো হয়। মৃত সৈন্যদের আতœার শান্তি কামনা করে বিশাল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তৈরী করেছে স্মৃতিসৌধ অথচ আমাদের দেশে মুক্তিযুদ্ধের বীর সৈনিকদের যথাযথ সম্মান দেখান তো দূরের কথা, স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যাকারী নরপশুরা পুরস্কৃত হয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে নিয়োগ পায়। জিয়া কর্তৃক গঠিত পার্লামেন্টে আইন পাশ করে বঙ্গবন্ধুর নৃশংসভাবে হত্যাকান্ডের বিচার রোধ করা হয়। জেলখানায় চার জাতীয় নেতার হত্যাকান্ড সহ, বিভিন্ন সময়ে মুক্তিযোদ্ধা সামরিক অফিসারদের ঠান্ডা মাথায় খুন করার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে জিয়াউর রহমান কুশীলবের ভূমিকা পালন করেন। কুচক্রী জিয়াই অসম্প্রাদায়িক রাষ্ট্র সাধনাকে উৎখাত করে সামরিকতন্ত্র, হিংস্র সাম্প্রদায়িকতা, রাজাকারদের সামাজিকভাবে পূনর্বাসন করেন। তিনি বর্তমানের মৌলবাদ ও ইসলামী জঙ্গীবাদ সৃষ্টির প্রতিষ্ঠাতা। ক্ষমতার জন্য ক্যু ও পাল্টা ক্যু করে নিরীহ হাজার হাজার সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হাত রক্তে রঞ্জিত করেছেন। বন্দুকের জোরে সাধারন সৈনিকদের ব্যবহার করে এবং শাসনতন্ত্র রক্ষার শপথ ভঙ্গ করে তিনি যে অমার্জনীয় অপরাধ করেছেন মরনত্তোর হলেও তার বিচার হওয়া উচিত বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। যে ব্যাক্তি ১৯৭১ সনে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন অবস্থায় পাকিস্তান সরকারের প্রতিনিধি হিসাবে জাতিসংঘে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন তিনি তার মন্ত্রী পরিষদের প্রধানমন্ত্রী, নাম তার শাহ্ আজিজুর রহমান। বঙ্গবন্ধুকে যেসব নরপশুরা হত্যা করেছে তাদের অন্যতম মেজর ডালিম। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার প্রতিদান স্বরূপ খুনী মেজর ডালিমের বাবা জনাব সামছল হককে জিয়ার গঠিত পার্লামেন্টে ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকার এমপি করা হয়েছিল। এই ছিল জিয়ার চরিত্রের আসলরূপ। অন্তরে তীব্র হতাশা, ক্ষোভ এবং দুঃখ নিয়ে আমি কানাডাতে স্বেচ্ছা নির্বাসন বেছে নেই সেই সময়ে।
[
প্রসঙ্গক্রমে বলতে হয়, আমরা এমনি অকৃতজ্ঞ যে ১৯৭১ সালে ভারতের জনগন এবং তৎকালীন প্রধান মন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সরকার অকৃপনভাবে মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য করেছিলেন, ১ কোটি লোককে আশ্রয় দিয়েছেন অথচ আমরা প্রতিবছর বিজয় দিবসে ভারতের অবদানকে স্মরন করে কোন লেখা পত্রিকায় দেখিনা। ভারতের হাজার হাজার সৈন্য ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে প্রান বিসর্জন দিয়েছেন অথচ আমরা এতদিনেও ঐ অজানা সৈনিকদের জন্য একটি স্মৃতিসৌধ তৈরী করতে পারিনি। এ দুঃখ ও বেদনা রাখব কোথায়? নিজেদেরকে অপরাধী মনে হয়। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে হিটলারের নাৎসী বাহিনীর বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর হয়ে যারা যুদ্ধ করেছিলেন এবং এখনও জীবিত আছেন; তাদের বীরত্ব ও ত্যাগের কথা স্মরন করে প্রতিবছর আমেরিকা, কানাডা ও ইংল্যান্ড থেকে নরম্যান্ডি, ফ্রান্স ও ইতালীতে নিয়ে এসে সন্মান দেখানো হয়। মৃত সৈন্যদের আতœার শান্তি কামনা করে বিশাল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তৈরী করেছে স্মৃতিসৌধ অথচ আমাদের দেশে মুক্তিযুদ্ধের বীর সৈনিকদের যথাযথ সম্মান দেখান তো দূরের কথা, স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যাকারী নরপশুরা পুরস্কৃত হয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে নিয়োগ পায়। জিয়া কর্তৃক গঠিত পার্লামেন্টে আইন পাশ করে বঙ্গবন্ধুর নৃশংসভাবে হত্যাকান্ডের বিচার রোধ করা হয়। জেলখানায় চার জাতীয় নেতার হত্যাকান্ড সহ, বিভিন্ন সময়ে মুক্তিযোদ্ধা সামরিক অফিসারদের ঠান্ডা মাথায় খুন করার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে জিয়াউর রহমান কুশীলবের ভূমিকা পালন করেন। কুচক্রী জিয়াই অসম্প্রাদায়িক রাষ্ট্র সাধনাকে উৎখাত করে সামরিকতন্ত্র, হিংস্র সাম্প্রদায়িকতা, রাজাকারদের সামাজিকভাবে পূনর্বাসন করেন। তিনি বর্তমানের মৌলবাদ ও ইসলামী জঙ্গীবাদ সৃষ্টির প্রতিষ্ঠাতা। ক্ষমতার জন্য ক্যু ও পাল্টা ক্যু করে নিরীহ হাজার হাজার সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হাত রক্তে রঞ্জিত করেছেন। বন্দুকের জোরে সাধারন সৈনিকদের ব্যবহার করে এবং শাসনতন্ত্র রক্ষার শপথ ভঙ্গ করে তিনি যে অমার্জনীয় অপরাধ করেছেন মরনত্তোর হলেও তার বিচার হওয়া উচিত বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। যে ব্যাক্তি ১৯৭১ সনে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন অবস্থায় পাকিস্তান সরকারের প্রতিনিধি হিসাবে জাতিসংঘে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন তিনি তার মন্ত্রী পরিষদের প্রধানমন্ত্রী, নাম তার শাহ্ আজিজুর রহমান। বঙ্গবন্ধুকে যেসব নরপশুরা হত্যা করেছে তাদের অন্যতম মেজর ডালিম। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার প্রতিদান স্বরূপ খুনী মেজর ডালিমের বাবা জনাব সামছল হককে জিয়ার গঠিত পার্লামেন্টে ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকার এমপি করা হয়েছিল। এই ছিল জিয়ার চরিত্রের আসলরূপ। অন্তরে তীব্র হতাশা, ক্ষোভ এবং দুঃখ নিয়ে আমি কানাডাতে স্বেচ্ছা নির্বাসন বেছে নেই সেই সময়ে।
জেনারেল এরশাদ তারই পূর্বসুরীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে রূপান্তরিত হলেন বিশ্ব বেহায়ায়। এই স্বৈরশাসক জন্মগত ভাবেই কুচরিত্রের কারনে নীতি ও নৈতিকতাহীন। নিজের স্বার্থে যে কোন ন্যাক্কারজনক এবং নিয়ম বর্হিভূত কাজ করতে তার ছিলনা কোন দ্বিধা। নিজের ক্ষমতাকে নিস্কন্ঠক রাখতে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থ ও সম্পত্তি বরাদ্দ দিয়েছেন খেয়ালখুশী মত। জেনারেল এরশাদ খুনীদের আইনের আওতায় না নিয়ে বরং তারই সমর্থন এবং আর্শীবাদে খুনীদের বিভিন্ন দূতাবাসে জেনারেল জিয়ার দেয়া নিয়োগ বহাল রাখা হয়। তদোপরি ঘাতকদের সেনাবাহিনীর সকল বেনিফিট দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। বঙ্গবন্ধু এবং জেলে জাতীয় নেতাদের হত্যার ঘাতকেরা তারই আশ্রন প্রশয় নিয়ে ফ্রিডম পার্টির নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করে।
ধূর্ত প্রতারক বক ধার্মিক জেনারেল এরশাদ সংবিধানে গৃহীত রাষ্ট্রীয় চার মূল নীতিকে বির্সজন দিয়ে দেশের অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের উপেক্ষা করে ব্যক্তি স্বার্থে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার অপকৌশল হিসাবে একটি মাত্র ধর্মের মাধ্যমে রাষ্ট্রের মূখ্য নীতি প্রবর্তনের ঘোষনা করায় আবহমান কাল ধরে লালিত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের পথ ধরে চলতে থাকে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভাজন ও অবিশ্বাসের রাজনীতি। ফলে সমাজ ব্যবস্থার সকল পর্যায়ে আজ দেখতে পাই প্রকট অবক্ষয় ও পচনের ছাপ, যা রাষ্ট্রের জন্য মঙ্গলকর নয়। যে দেশটিতে বাস করছি- নাই কোন ধর্মের প্রাধান্য, রাষ্ট্রীয় কর্মকান্ডে ধর্মীয় হস্তক্ষেপ আইনগত ভাবে অনুপস্থিত তাই সমাজের সকল ক্ষেত্রে বিরাজ করছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সুখ ও শান্তি।
জিয়ার উত্তরসুরী বেগম খালেদা জিয়া কর্নেল মোস্তাফিজকে পররাষ্ট্র মন্ত্রী করেছেন- যোগ্যতা একটাই তিনি একমাত্র বাঙালী আর্মি অফিসার যিনি আমাদেরকে আগরতলা মামলায় বন্দী অবস্থায় জেরা ও নির্দয় ভাবে শারিরীক নির্যাতনের অন্যতম সদস্য। নিকট অতীতে খালেদা জিয়া করহম’ং ড়ভ রাজাকারদের মন্ত্রী পরিষদে অর্ন্তভূক্ত করে মুক্তিযুদ্ধের ঝঢ়রৎরঃ কে কলংকিত, আর তা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উপর চপটাঘাতের শামিল।
আজ এটা দিবালোকের মতো পরিস্কার ও তা নিয়ে কারও কোন সন্দেহ নাই যে ৭৫ সনে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর থেকে ৯৬ সন পর্যন্ত সংগঠিত জঘন্যতম সকল অপরাধ একই সূত্রে গাঁথা। তাদের অবৈধ ও নীতি বির্বজিত কৃতকর্মের সহযোগিরাও ঘৃনিত ও নিন্দিত ইতিহাসের কাঠগড়ায়।
আজ এটা দিবালোকের মতো পরিস্কার ও তা নিয়ে কারও কোন সন্দেহ নাই যে ৭৫ সনে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর থেকে ৯৬ সন পর্যন্ত সংগঠিত জঘন্যতম সকল অপরাধ একই সূত্রে গাঁথা। তাদের অবৈধ ও নীতি বির্বজিত কৃতকর্মের সহযোগিরাও ঘৃনিত ও নিন্দিত ইতিহাসের কাঠগড়ায়।
লেখা শেষ করার আগে বন্দনা করি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ ও বীরঙ্গনা মা বোনদের, ভাষা আন্দোলন ও ৬ দফা আন্দোলনের শহীদদের, ১৯৬৯ এর গন- আন্দোলনের শহীদ ও নাম না জানা অসংখ্য বীরযোদ্ধাদের। অগাধ শ্রদ্ধা ও লাল সালাম সংগ্রামী ছাত্র জনতার প্রতি যারা ঐ সময়ে আমাদেরকে ষড়যন্ত্র এবং রাষ্ট্রদ্রোহীতার মামলার কারনে অনিবার্য ফাঁসি থেকে মুক্ত করেছেন।
মৃত্যুর আগে স্বপ্ন দেখি যেন সৎ এবং সাহসী মানুষেরা একত্রিত হয়ে সমস্ত অন্যায়ের প্রতিবাদ করে এবং অন্যদের এ আদর্শে উদ্বুদ্ধ করে দেশ ও মানুষকে ভালোবাসতে শেখায়। দেখতে চাই বিস্মৃত শহীদদের প্রকৃত মূল্যায়ন ও মর্যাদা প্রদানসহ জাতির বৃহত্তর কল্যানে ১৫ ই আগষ্ট বঙ্গবন্ধু এবং জেলহত্যার ঘাতক নরপশু এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তিদান, যা আজ আপামর জনগনের প্রানের দাবী। আর এতেই জাতির বিবেক গ্লানিমুক্ত হবে।
টরন্টো, কানাডা
২১ অক্টোবর ২০০৯
২১ অক্টোবর ২০০৯
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন