মানিক চৌধুরীর মরণোত্তর সন্মাননা গ্রহণ করছেন দীপংকর চৌধুরী কাজল ২৭ ২ ২০১১ইং

রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

হাবিলাস দ্বীপ গ্রামের রাস্তাটি অবেহেলিত



 
  মাননীয়
 পটিয়ার এম,পি মহোদয়, ইউপি চেয়ারম্যান দৃষ্টি আকষন করছি । আপনাদের হাবিলস দ্বীপ গ্রামটি
আপনাদের বোট ব্যাংক।হাবিলাস দ্বীপ গ্রামের রাস্তাটি অবেহেলিত।যে রাস্তা দিয়ে হাজার হাজার মানুষ ও স্কুল ছাত্র ছাত্রী এবং সুস্ত-অসুস্ত লোক আসা যাওয়া করে।তাই আপনাদের দৃষ্টি আকষন করছি । 
 


মঙ্গলবার, ১ জুলাই, ২০১৪

মৃত্যুবার্ষিকী

মানিক চৌধুরী

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রাজনীতিবিদ ভূপতি ভূষণ চৌধুরী ওরফে মানিক চৌধুরীর ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। এ উপলক্ষে মানিক চৌধুরী স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে পটিয়ার হাবিলাসদ্বীপ গ্রামে প্রয়াতের আবক্ষ মূর্তিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া পারিবারিকভাবে রাউজান উপজেলার জগত্পুর অনাথ আশ্রমে শিক্ষার্থীদের খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।




সোমবার, ৩০ জুন, ২০১৪

বিপ্লবী মানিক চৌধুরী

স্মরণবিপ্লবী মানিক চৌধুরী
দেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে দুজন আওয়ামী লীগ নেতা, তিনজন সিভিল (সিএসপি) কর্মকর্তাসহ নৌ, বিমান এবং সেনাবাহিনী থেকে প্রত্যক্ষভাবে জড়িতদের চিহ্নিত করে মোট ৩৫ জনকে চার্জশিটভুক্ত আসামি করে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা রুজু করা হয়। ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন এ রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ১১ জনকে রাজসাক্ষী এবং দুই শতাধিক সামরিক ও বেসামরিক লোককে সাক্ষী করা হয়। সশস্ত্র বাহিনীর সহস্রাধিক সদস্য বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। এই মামলার আসামি হিসেবে আমাকেও গ্রেফতার করা হয়। ঢাকা সেনানিবাসে স্পেশাল ট্রাইব্যুনালে মামলাটিকে রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিব এবং অন্য শিরোনামে রুজু করা হলেও এটাকে দুরভিসন্ধিমূলকভাবে ভারতের ষড়যন্ত্র হিসেবে প্রচার করা হয়, যাতে করে স্বাধীনতাকামী সৈনিক-জনতার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ক্ষেপিয়ে তোলা যায় ও শেখ মুজিবসহ বিপ্লবী সংগঠকদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে স্বাধীনতা আন্দোলনকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়া যায়। ১৯ জুন মামলা শুরু হওয়ার পর আমার সঙ্গে পরিচয় ঘটে অভিযুক্ত চট্টগ্রামের সিটি আওয়ামী লীগের নেতা বিভূতিভূষণ চৌধুরী ওরফে মানিক চৌধুরী এবং বিধানকৃষ্ণ সেনের সঙ্গে। বিচার চলাকালে সব অভিযুক্তের সঙ্গে আমার সখ্য হলেও মানিক চৌধুরীর কথাবার্তায় আমি তার প্রতি বিশেষভাবে আকৃষ্ট হই। মানিক চৌধুরী ও বিধানকৃষ্ণ সেনের সঙ্গে আমার দেখা হতো প্রতিদিন বিকেলে কারাগারের খোলা চত্বরে অথবা খাবার ঘরে। তখন দেখতাম মানিক চৌধুরীর ওপর পাকিস্তানিদের পাশবিক নির্যাতনের চিহ্ন। নির্যাতনে তার কান ও একটা চোখ অকেজো হয়ে যায়। আমাদের ওপর নির্যাতন হলেও লে. কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন, বিধানকৃষ্ণ সেন, মানিক চৌধুরী এবং স্টুয়ার্ড মুজিবের ওপর নির্যাতনের মাত্রা ছিল সীমাহীন। দেখতাম মানিকদা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছেন, তবুও তিনি নিম্নস্বরে হাসিমুখে আমাদের সঙ্গে কথা বলতেন। গৌরবর্ণ ও মাঝারি গড়নের শান্ত সৌম্য মানিক চৌধুরীর অগাধ দেশপ্রেম, দেশকে নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার সঙ্গে পরিচিত হয়ে আমি মুগ্ধ হই। অনেক কথাই হয়েছে তার সঙ্গে। মতান্তরও ছিল কিছু বিষয়ে, কিন্তু মনান্তর হয়নি এক মুহূর্তের জন্য। বন্দি দিনগুলোতে মানিকদার কথোপকথন আমাকে স্মরণ করিয়ে দেয় অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা। মামলা চলাকালে বঙ্গবন্ধু তার জামাতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী প্রয়াত ওয়াজেদ মিয়ার মাধ্যমে তখনকার ডাকসুর ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদকে আত্দীয় পরিচয়ে অতি গোপনীয়তার সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে মুক্তির আন্দোলন এবং পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলাপ করতেন। মুক্তির আন্দোলন যখন চরমে ওঠে তখন ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে ঢাকা সেনানিবাসে আটক অবস্থায় টয়লেটে যাওয়ার সময় সার্জেন্ট জহুরুল হক এবং ফ্লাইট সার্জেন্ট ফজলুল হককে এক পাকিস্তানি নিরাপত্তারক্ষী সামনাসামনি গুলি করে ও মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য জহুরুলের শরীরে বেয়নেট চার্জ করে। পরে তিনি সিএমএইচে মারা যান। এ ঘটনার পর আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে ও বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক অগি্নসংযোগের ঘটনা ঘটে, যা পরে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। সরকার বিনা শর্তে ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ মামলা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়। মামলা প্রত্যাহারের পর দেশজুড়ে প্রাথমিক বিজয়ের আনন্দ-হিল্লোল বয়ে যায়। শেখ মুজিবসহ সব অভিযুক্ত মুক্তি লাভ করলে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে শেখ মুজিবকে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করে। এই মামলায় চট্টগ্রাম থেকে আমরা যারা অভিযুক্ত ছিলাম তাদের চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রয়াত মন্ত্রী জহুর আহম্মদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সংবর্ধনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। মানিক চৌধুরী, বিধানকৃষ্ণ সেন এবং আমাকে বিপুল জনতার উপস্থিতিতে বিজয়মালায় অভিষিক্ত করা হয়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা একটি অন্যতম মাইলফলক। স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে এ মামলার গুরুত্ব অপরিসীম। আগরতলা মামলাকে কেন্দ্র করে যেসব ঘটনা ঘটে সেগুলোই স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি অন্যতম স্রোতধারা।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা পালনকারী হিসেবে অনেক রাজনৈতিক নেতার নাম উচ্চারিত হয়। কিন্তু আমার ভাবতে অবাক লাগে মানিক চৌধুরী ও বিধানকৃষ্ণ সেনসহ মামলার অভিযুক্ত অন্য বিপ্লবীদের আমরা কিভাবে ভুলে গেলাম।
মাহ্ফুজুল বারী, টরন্টো, কানাডা

শনিবার, ২৪ মে, ২০১৪

‘এ জাতির অহংকার মানিক চৌধুরী’

চট্টগ্রাম সাহিত্য পাঠচক্র ও চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে চেরাগী পাহাড় কদম মোবারক উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে গতকাল বিকেল ৪ টায় চট্টগ্রামের কৃতী সন্তান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর, ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ভূপতি ভূষণ চৌধুরী ওরফে মানিক চৌধুরীর ৩৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক সংগঠক দেওয়ান মাকসুদ। তিনি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের দিক নির্দেশনাকে মানিক চৌধুরী চট্টলার প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বঙ্গবন্ধুর সহচর মানিক চৌধুরী এ জাতির অহংকার। তাঁর মত মানুষ চট্টগ্রামে জন্ম নেওয়ার কারণে চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধা সুসংগঠিত হয়েছিল এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের বাঙালির মুক্তি অর্জনে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। আজ জাতির ক্রান্তিলগ্নে মানিক চৌধুরীর মত নেতৃত্ব জাতি ভীষণভাবে অনুভব করছে। চট্টগ্রামের এম.এ আজিজ, জহুর আহম্মদ চৌধুরী, এম.এ হান্নানের মত মানিক চৌধুরী ও তাঁর কর্মে ও রাজনীতিক যোগ্যতায় স্বাধীনতাকামী মানুষের মাঝে আজীবন স্বপ্নদ্রষ্টা হয়ে বেঁচে থাকবেন।
সাংস্কৃতিক কর্মী খোরশেদ আলমের সভাপতিত্বে আলোচনায় প্রধান আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সংরক্ষণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কিরণ লাল আচার্য।
আলোচনায় আরও অংশ নেন চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের সভাপতি সোহেল মো. ফখরুদ-দীন, চট্টগ্রাম সাহিত্য পাঠচক্রের সাধারণ সম্পাদক আসিফ ইকবাল, সঙ্গীত মিডিয়ার পরিচালক শিল্পী জামাল উদ্দিন, সাংস্কৃতিক কর্মী আবুল খায়ের, কবি শওকত জাহান, কবি আব্দুল জাব্বার আলী, আলী হোসেন, নয়ন বড়ুয়া, কেশব কান্তি পাল, ডা. অঞ্জন সেন, ন্যাপ নেতা এম.এ সালাম, কবি মীর মনিরুল হক সেলিম প্রমুখ।
http://www.suprobhat.com/?p=60283