ঢাকা নিউজ 24 ডট কম, ঢাবি( ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১১).
স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্তির আন্দোলনের প্রথম পদক্ষেপ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা। দেশদ্রোহী মামলায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুসহ মোট ৩৫ জনকে আসামী করে আটক করে পাকি সরকার। মামলায় আটক আসামীদের ফাঁসি কর্যকর না করতে পেরে গুলি করে হত্যা করে অনেককে। পালিয়ে প্রাণে বেঁচে যায় বাকীরা। ঐতিহাসিক এই আগরতলা মামলায় অভিযুক্ত আসামীদের মধ্যে সম্মননা প্রদান করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার বিকাল ৩ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী সিনেট ভবনে আগরতলা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হকের ৪২ তম মৃত্যবার্ষীকি উপলক্ষ্যে জহুরুল হক হল কর্তৃক আয়োজিত এক সম্মাননা প্রদান ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ৩৫ জন অভিযুক্তের মাঝে মরোনত্তর ও জীবিতদের মাঝে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়েছে।
পদক প্রাপ্ত অন্যান্যরা হলোন, লে: কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন (মরোনত্তর), স্টুয়ার্ড মুজিবুর রহমান(মরোনত্তর),এলএস সুলতান উদ্দিন আহমেদ(মরোনত্তর), এল এস সিডিআই নূর মোহাম্মদ, আহমেদ ফজলুর রহমান সিএসপি(মরোনত্তর), ফ্লাইট সার্জেন্ট মফিজুল্লাহ(মরোনত্তর), করপোরাল এ বিএম আব্দুস সামাদ, প্রাক্তন হাবিলদার দলিল উদ্দিন আহমেদ, রুহুল কুদ্দুস সিএসপি, ফ্লাইট সার্জেন্ট মোহাম্মদ ফজলুল হক, ভূপতি ভূষণ চৌধুরী (মানিক চৌধুরী) (মরোনত্তর), বিধান কৃষ সেন(মরোনত্তর), সুবেদার আব্দুর রাজ্জাক(মরোনত্তর), প্রাক্তন হাবিলদার ক্লার্ক মুজিবুর রহমান(মরোনত্তর), প্রাক্তন ফ্লইট সাজেন্ট মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক(মরোনত্তর), সার্জেন্ট জহুরুল হক(মরোনত্তর), প্রাক্তন এ বি মুহাম্মদ খুরশিদ, খান এম সামসুর রহমান(মরোনত্তর), রিসালদার একে এম শামসুল হক(মরোনত্তর), হাবিলদার আযিযুল হক(মরোনত্তর), এ এস সি মাহফুজুল বারী,সার্জেন্ট শামসুল হক, মেজর শামসুল আলম, ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আব্দুল মোতালিব(মরোনত্তর), ক্যাপ্টেন এম শওকত আলী মিঞা, ক্যাপ্টেন এ এন এম নুরুজ্জামান(মরোনত্তর), সার্জেন্ট আব্দুল জলিল(মরোনত্তর), মোহাম্মদ আবদুল জলিল, মোহাম্মদ মাহবুব উদ্দিন চৌধুরী,লে: এম এম এম রহমান(মরোনত্তর), প্রাক্তন সুবেদার এ কে এম তাজুল ইসলাম(মরোনত্তর), মোহাম্মদ আলী রেজা, (মরোনত্তর) ক্যাপ্টেন খুরশিদ উদ্দিন আহমেদ, লে: আব্দুর রউফ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আআমস আরেফিন সিদ্দিক এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে এবং পাকিস্তান সশস্র বাহিনীতে লে, কর্নেল মোয়াজ্জেম হোসেনের নেতৃত্বে আমরা সর্বস্তরের বাঙ্গালী ও ছাত্রজনতার সহযোগিতায় বাংলাকে স্বাধীন করার প্রস্ততি গ্রহণ করেছিলাম। তিনি বলেন আমাদের পরিকল্পনা ছিল একটি নির্দিষ্ট রাতে নির্দিষ্ট সময়ে পাকিস্তানের সব ক্যান্টনমেন্টে হামলা চালিয়ে বাংলাদেশকে স্বাধীন হিসেবে স্বিকৃতি দেওয়া। কিন্তু তা ফাস হয়ে যায়। যার ফলে পাকিস্তান সরকার এদেশের হাজার হাজার লোককে বন্ধী করে। এর মধ্য থেকে শেখ মুজিবসহ ৩৫জনকে আসামী দেখিয়ে রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিব ও অন্যান্য নামে একটি মামলা করে। এক পর্যায়ে ৬৯এর ১৫ফেব্রুয়ারি সার্জেন্ট জহুরুল হককে হত্যা করে। এভাবে তিনি আগরতলা মামলার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপসি‘ত ছিলেন ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য অধ্যাপকা ড. হারুন-অর-রশিদ, কোষাধ্যক্ষ মীজানুর রহমান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আগরতলা মামলার ৩৪ নং আসামী ব্রিগেডিয়ার (অব) খুরশিদ উদ্দিন আহমেদ, জহুরুল হলের চিকিৎসক কর্নেল (অব) ডা. এমএম আলী, মামলার ৫ নং আসমী নূর মোহাম্মদ ও শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হকের ভ্রতুষ্পুত্রী নাজনিন হক মিমি। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জহুরুল হক হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবু মোহাম্মদ দেলোয়ার । ঢাকা নিউজ 24 ডট কম/ইয়ামিন.
![]() |

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন